নির্বাচিত প্রবন্ধ

সভ্যতার বিকৃতি

আবু মুসা

বাংলাদেশ। রুপের রানী বলা হয় এই দেশকে। নয় মাস বুকের তাজা রক্ত দিয়ে দেশের সম্মান রক্ষা করেছি আমরা, নিজেদের মুক্ত করেছি সমস্ত শৃংখল থেকে। আমাদের ইতিহাস আছে, ঐতিহ্য আছে। আছে নিজস্ব সাহিত্য, নিজস্ব সংস্কৃতি। আমরা আমাদের শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি নিয়ে গর্বিত। আমরা তাতে সমৃদ্ধ। জাতিগতভাবে আমাদের এই অর্জন অসামান্য। কিন্তু এই অর্জন আমাদের প্রতিবেশীদের অপছন্দ।

ফলে বরাবর তারা আমাদের সংস্কৃতিতে হস্তক্ষেপ করছে, আমূল বদলে দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের সংস্কৃতি আমাদের উপর চাপিয়ে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিরোধ উসকে দিচ্ছে। এইতো কয়েক বছর আগে, হাইকোর্টের সামনে বসানো হলো গ্রিক দেবীর ভাস্কর্য। এক হাতে তরবারি, অন্য হাতে দাঁড়িপাল্লা। দেবী থেমাস ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সেই গ্রিক থেকে ছুটে এসেছেন, শুধু আমাদের সংস্কৃতির পোশাক টা গ্রহণ করেছেন, যেন আমাদের পরিচিতি পৃথিবীর বুকে “যাদের নিজস্ব কোন সভ্যতা নেই”।

আসলেই কি ন্যায়বিচারের কোন প্রতীক আমাদের নেই? গ্রিক সভ্যতা তাই আমাদের করুণা করল! মূর্তি সংস্কৃতিতে এতই আস্থা আমাদের??! সুদীর্ঘ আটশো বছরের গৌরবময় মুসলিম শাসনের অর্জিত সংস্কৃতির দোহাই দিয়ে আজ যদি বলি, মূর্তির অপসারণ চাই, এর সাথে আমাদের সংস্কৃতির কোন সম্পর্ক নেই, উত্তরে বলবে, ধর্মান্ধরা এই দাবি করে দেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে, শিল্পকলার বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। আসলেই কি তাই??

মন্তব্য করুন