প্রবন্ধ

ভাষা দিবসের অঙ্গীকার by জুবায়ের আহসান

প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি মাস এলেই বাংলা ভাষার উপর বহুমাত্রিক চিন্তা-ভাবনা ও পরিকল্পনা শুরু হয়ে যায়। বিভিন্ন সভা-সেমিনার বা সিম্পোজিয়ামে ভাষার উপর ব্যবচ্ছেদ চলতেই থাকে। যেখানে বক্তারা এবং আয়োজনকর্তারা নিজেদেরকে একুশচেতনার ধ্বজাধারী হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করে থাকেন। তাদের বক্তব্যে একুশের প্রতি দরদ উথলে পড়ে। বিভিন্ন ধরনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পরামর্শও তারা দিয়ে থাকেন। কিন্তু তাদের এই হাঁকডাক শুধুমাত্র ফেব্রুয়ারিতেই সীমাবদ্ধ থাকে। এ মাস শেষ হলেই সবাই যেন সবকিছু বেমালুম ভুলে যেতে থাকেন। তাদের এই অবস্থা মূলত বাংলা ভাষাকে অবমাননা ও প্রতারণার শামিল।

অবাধ ইন্টারনেটের এই যুগে বিদেশি সংস্কৃতির আগ্রাসন আমাদের বাংলা ভাষাকে তার স্বকীয়তা ও স্বাতন্ত্রিকতা থেকে বহু দূরে ঠেলে দিয়েছে। আমাদের এক প্রতিবেশির (আল্লাহ তাকে ঈমানের আলো দান করুক। আমিন।) বাচ্চাকে দেখলাম হিন্দিতে কথা বলছে। বাচ্চাটিকে জিজ্ঞেস করলাম বাংলা বলতে পারো কিনা? ও অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো। বাচ্চার বাবাকে দেখলাম ভাবলেশহীন। সেদিন এক আলেমের বইয়ে পড়লাম, তিনি হজ্বের আলোচনায় লিখেছেন, “নন-মাহরাম” কারো সাথে নারীরা হজ্বে যেতে পারবে না।

একুশের সেমিনারে দাঁড়িয়ে বাংলা ভাষার প্রতি দরদ দেখাই, ইংরেজিকে তুলাধুনা করি, আবার বাসায় ফিরে এসে মাম্মি-ড্যাডি এবং গুড মর্নিং এর চর্চা করি। কথায় কথায় দু’একটি ইংরেজি বলতে পারলে নিজেকে শিক্ষিত ভাবি। এটাকে আর যাই বলি না কেন ভাষার প্রতি দরদ বা মমতা বলার সুযোগ নেই। এখন পর্যন্ত বাংলায় ই-মেইল লেখার পরিবেশ তৈরি হয়নি। বাংলিশে কথাবার্তা চালাচালির যে মহামারী আমাদের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে সেটার কথা না হয় নাই বললাম। দেশের সর্বোচ্চ পরীক্ষা বিসিএস এর প্রশ্ন ও উত্তরপত্রে বানান ভুলের ছড়াছড়িও আজকাল দেখা যায়। এফএম রেডিওতে বাংলার বিকৃত উচ্চারণ ও ইংরেজির মাত্রাতীত উপস্থাপন ক্যান্সারের রূপ ধারণ করেছে।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেদেরকে উপস্থাপনের জন্য ইংরেজি ও অঙ্ককে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে গেলেও আধুনিকতার মানদণ্ডে আমরা বাংলা ভাষাকে বেশি দূর এগিয়ে নিতে পারিনি।

জাতিসংঘ বাংলা ভাষাকে অনেক আগেই মর্যাদার আসনে বসিয়ে আমাদের মাতৃভাষাকে বিশ্বদরবারে বিশেষ আসনে অলংকৃত করেছে। কিন্তু আমরা নিজেরাই সেই মর্যাদা ধরে রাখতে পারছিনা। এর দায়ভার এবং ব্যর্থতা আমাদেরকেই নিতে হবে।

সুতরাং সময়ের দাবি হল বাংলা ভাষায় ইংরেজি-হিন্দি ও অনুপ্রবেশ রোধ করা এবং বাংলার বিকৃত উচ্চারণ বন্ধ করা। “শুদ্ধ উচ্চারণ ও বিশুদ্ধ বানান” এটাই হোক এবারের ভাষা দিবসের অঙ্গীকার।

জুবায়ের আহসান

শিক্ষার্থী

মন্তব্য করুন