প্রবন্ধ

প্রয়োজন পুনোর্দয় – ফাহাদ হোসেন

ভূপৃষ্ঠে যখন অন্যায় অবিচার ব্যাপক ছিল,চুরি ডাকাতি হত্যা ব্যভিচার নিয়মিত বিষয়ে পরিণত হয়েছিল, তখন বিশেষভাবে যারা অধিকারবঞ্চিত ছিল তারা হল নারীসমাজ। কন্যা সন্তান হয়ে জন্ম নেওয়া ছিল অপরাধ।গর্ভধারিনী জননী হতো আরও বড় দোষী। অতি অল্প বয়সেই কন্যাসন্তানকে তুলে দেয়া হতো মৃত্যুর কোলে। পণ্য হিসেবে ব্যবহার ছিল নারীদের।দীর্ঘ পাঁচশত বছরের অধিক সময় পর্যন্ত কোন নবীর আগমন না হওয়ায় মানুষের ভালো-মন্দের হিতাহিত জ্ঞান লোপ পেয়েছিল। পার্থক্য ছিল না মানুষ আর পশুতে।
এরপর মানবতার মুক্তির দূত রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আবির্ভাব হল। তিনি নিয়ে এলেন পরিপূর্ণ সম্মানের এক জীবন বিধান। সে জীবন বিধানের আলোকে ধীরে ধীরে মানুষ পেলো সঠিক পথ। তাদের প্রত্যেকে হয়ে গেল হেদায়াতের আলোকবর্তিকা। সে সময় নারীও ফিরে পেল তার পূর্ণ সম্মান ও মর্যাদা, স্বাধীনতা ও অধিকার।
এরপর পৃথিবী দেখতে পেল শ্রেষ্ঠতম সুন্দর যুগ। ইসলামের সোনালী আলোয় আলোকিত হচ্ছিল গোটা পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল। এক সময় অর্ধ পৃথিবী জুড়ে বিস্তৃত হলো ইসলামী খেলাফত। অর্ধ পৃথিবী জুড়েই নারী পেল পূর্ণ অধিকার। ছড়িয়ে পড়ল সেখানে ইসলামের শান্তি ও সাম্যের বাণী।এক সময় বিভিন্ন কারণে মুসলমানদের দুর্বলতায় ইসলামী খেলাফত আক্রান্ত হলো বিভিন্ন চক্রান্তে। প্রথম এল ক্রুসেডারদের আক্রমণ। এরপর তাতারীদের হামলা। এরপর আপোষের সংঘাতে স্পেনের পতন। নিজেদের দুর্বলতা, অক্ষমতায় ইসলামী খেলাফত হারালো তার কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ। ক্ষমতা চলে গেল অমুসলিমদের হাতে। নারী আবারো পরিণত হল নিয়ন্ত্রিত পুতুলে। হারালো তার সম্মান ও মর্যাদা। তবে এবারের পদ্ধতি ছিল ভিন্ন।

ফলে নারী অধিকার নিয়ে সোচ্চার হলো প্রথমে পুরুষেরা।তারা যখন রাস্তায় নারী অধিকার নিয়ে স্লোগান দেয় তখন তাদের অফিসগুলোতে চাকরি দেয়ার নামে ছলে-বলে-কৌশলে নারীর সতীত্ব হরণ করা হয়। জাহিলিয়াতের জাহেলদের মত নবজাতককে হত্যা না করলেও, রাস্তায় ও ড্রেনে নবজাতককে ফেলে দেওয়া চলে এসেছে স্বাভাবিক পর্যায়ে। না এতে নারীর অপমান বোধ জাগ্রত হয়, না এতে তার মাতৃত্বের অসম্মানের বোধ কাজ করে।
আফসোস, বর্তমানের নারীসমাজ তথাকথিত আধুনিক সভ্যতার আগুনে জ্বলে পুড়ে অঙ্গার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তবু তারা ছুটে চলেছে নারী-স্বাধীনতা নামের বিবস্ত্র আলেয়ার পিছনে। এভাবে সে নিয়মিত হচ্ছে প্রতারিত, বঞ্চিত, লাঞ্ছিত।
আজকের পৃথিবী যে অপরাধের সয়লাবে ভেসে যাচ্ছে, তার সিংহভাগ নারী সংক্রান্ত। ফলে অপরাধ ঢাকতে প্রমাণ সরিয়ে ফেলতে নারীকে করা হচ্ছে খুন। তবু আমাদের সরলমতি মা-বোনেরা বুঝতে পারছে না, কেন তারা আব্রুহারা হচ্ছে, কেন তাদের জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই।
তারা কখনো যথার্থ উদ্যোগী হতে পারছে না নিজেদের সমস্যার প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে। যদিও উদ্যোগী হয়, তবে সেই নারী লোভী নরপিশাচদের তত্ত্বাবধানে। ওরাতো মুখে নারীর মুক্তি, স্বাধীনতা ও সমান অধিকারের কথা আওড়ায়, কার্যত তারা নারী কে ভোগের বস্তু হিসেবে তাদের নিয়ে খেলতেই পছন্দ করেম। নির্জন অভিসার বা রাতিবাসে আমি রাজি নই; এটা আমার নবীর নিষেধ, তাহলে আমরা শতভাগ নিশ্চয়তা সাথে বলতে পারি, তাদের সম্মানে হাত বসানোর মত কোন শকুন এই পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া যেত না। তাই আমাদের উচিত, ইসলামের বাণী তাদের কাছে আরো দ্রুত পৌঁছে দেয়া। তাদের জান-মাল ইজ্জত-আবরুর নিরাপত্তা বিধান করা।

ফাহাদ হোসেন

শিক্ষার্থী

মন্তব্য করুন